রাজনীতি

‘আমার সহজ-সরল উক্তি গুলোকে বিকৃত করা হয়েছে, মির্জা আব্বাস

কাটপিছ করে ইচ্ছামতো বক্তব্যকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেছেন, ‘আমার সহজ-সরল উক্তিগুলোকে বিকৃত করে যারা যেভাবে পেরেছে লিখেছে।’ আজ রোববার দুপুরে শাহজাহান পুর নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘আমার আংশিক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। কাটপিছ করে ইচ্ছামতো আমার বক্তব্যকে ব্যবহার করা হয়েছে। কী কারণে করা হয়েছে আমি জানি না। এমন কোনো কথা বলি নাই, যার জন্য আমাকে বিব্রত হতে হবে। সরকার বা আওয়ামী লীগ ইলিয়াস আলীকে গুম করে নাই। এমন কথা আমি বলি নাই। আমার কথা বিকৃত করে পেছিয়ে লেখা হয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘ইলিয়াস আলী গুমের জন্য বিএনপির কিছু নেতাকর্মী দায়ী। এই কথা আমি বলেছি, কেউ প্রমাণ করতে পারবে? আমার কথা বিবৃত করা হয়েছে। বিএনপির নেতারাই ইলিয়াস আলী গুম করেছে-এমন বক্তব্য আমি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দেওয়া সম্ভব? অর্থাৎ নিজের মাথার ওপর নিজেই বোমা ফুটানো। এখানে টুইয়িস্ট করা হয়েছে। ’
আজ সকালে একদল সাংবাদিক ইলিয়াস আলী বাসায় গিয়েছিল বলে উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘তার স্ত্রীকে রীতিমতো চার্জ করেছে। বিভিন্ন প্রশ্ন করে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছে। এটা কেন? এমন কি ঘটনা ঘটল যে, এই বিষয়টা নিয়ে এত মাথা ঘামাতে হবে। গত ৯ বছর ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার পর একটা পত্র-পত্রিকা এলটি লেখাও লেখা হয় নাই। কোনো দিবস পালন হয় নাই। আজকে হঠাৎ করে সেই ইলিয়াস আলীকে নিয়ে সাংবাদিকদের মাথা খারাপ হয়ে গেল? আমি কোনো সাংবাদিককে দোষ দিচ্ছি না।’
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘আমার সত্য বক্তব্যটা তুলে ধরতপন, তাহলে ভালো হতো। আমি এমন কোনো কথা বলি নাই যার জন্য বিএনপির নেতাকর্মী, জাতির কাছে বিব্রত হতে হবে।’
এর আগে গতকাল শনিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী ছিলেন একজন স্বাধীনচেতা, দেশপ্রেমিক সাহসী নেতা। এখানে আমাদের দলের মহাসচিব আছেন, তাকে বলতে চাই, ইলিয়াস গুমের পেছনে আমাদের দলের যে বদমাইশগুলো রয়েছে তাদেরকেও চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করেন প্লিজ। এদেরকে অনেকেই চেনেন।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটি এই সদস্য বলেন, ‘ইলিয়াস গুম হওয়ার আগের রাতে দলীয় অফিসে কোনো এক ব্যক্তির সাথে তার বাকবাতিণ্ডা হয়, ইলিয়াস খুব গালিগালাছ করেছিল তাকে। সেই বিষধর সাপগুলো এখনো আমাদের দলে রয়ে গেছে। যদি এদেরকে দল থেকে বিতারিত করতে না পারি সামনে এগুতে পারবেন না কোনো অবস্থাতেই।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা কিন্তু সামনের লক্ষণ ভালো দেখছি না। ইলিয়াসকে গুমের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব লংঘিত হতে যাচ্ছে। আমি বারবার বলি নেতৃত্ব শূন্যতা। হিসেব করে দেখেন একটা একটা করে রাজনৈতিক দল শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। এখন চলছে হেফাজত। বিএনপির ওপর নির্যাতন তো চলছেই। একটা সময় আওয়ামী লীগকেও শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আমি ধরে নিলাম আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াস আলীকে গুম করেনি; তাহলে গুম করল কে? আমাদের একজন নেতা সালাহউদ্দিনকে পাচার করে নিয়ে গেল, চৌধুরী আলমকে গুম করা হল, আমাদের দলের বহু নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। এটা কিন্তু বাংলাদেশকে ধ্বংস করার পূর্ব আলামত।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বেঁচে থাকি কি না জানিনা, দেখবেন সামনে আরও ঘটনা ঘটবে। গণমাধ্যমে খবরে দেখলাম প্রত্যেক থানা সামনে মেশিনগান ফিট করেছে, বালু বস্তা দিয়ে বাংকার করা-এসব কিসের আলামত? কাকে মারার জন্য এসব লাগবে? ব্রিটিশ সরকার একটি লাঠি দেওয়ার আগে চিন্তা করে সেখানে বাংলাদেশে আধুনিক অস্ত্র দিয়ে সশস্ত্রবাহিনীর আদলে পুলিশ বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। একটু হিসেব করার ব্যাপার বুঝি চলে এসেছে।’

সম্পর্কিত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button