করোনাভাইরাস

করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড

বরিশালে লকডাউনের পঞ্চম দিনে রাস্তাঘাটে জনসাধারণের সমাগম বেড়েছে। ব্যাংক-বীমা খোলা থাকায় ভিড় বেড়েছে। রাস্তায় বেড়েছে রিকশা, মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত যান চলাচল। আগের চারদিনের চেয়ে আজ সোমবার দোকানপাটও বেশি খুলেছে। লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর ভূমিকায় থাকলেও পথচারী কিংবা ব্যবসায়ী কাউকে দমানো যাচ্ছে না। এই অবস্থায় বিভাগটিতে করোনাভাইরাসের শনাক্ত ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৯৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় বিভাগে ৪৩৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ৪৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৭ জন। এর মধ্যে ৬ জন করোনায় ও ১১ জন উপসর্গ নিয়ে মারা যান। বিভাগে শনাক্ত ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড এটি। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন আক্রান্ত ৪৩৬ জনের মধ্যে বরিশাল জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৫৭ জন, পটুয়াখালীতে ৪৩ জন, ভোলায় ১৬ জন, পিরোজপুরে ৮৩ জন, বরগুনায় ৩৭ জন এবং ঝালকাঠিতে ১০০ জন। বিভাগে সর্বমোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭ জন।
শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানায়, করোনা ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে এখন ২২০ রোগী চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে ৪৭ জনের করোনা পজিটিভ এবং ১৭৩ জন আইসোলেশনে রয়েছেন।
এর আগে, গতকাল রোববার বিভাগে ৭২৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৪৩ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিলেন। বিভাগে মৃত্যু হয়েছিলেন চারজনের।
চলতি বছর মে মাসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর বরিশাল অঞ্চলের সংক্রমণ অনেকটা নিম্নমুখী ছিল। কিন্তু জুনের মাঝামাঝি তা বাড়তে থাকে। বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি এই তিন জেলা ঘিরে সংক্রমণের মাত্রা প্রকট আকার ধারণ করে। পিরোজপুরে করোনার ভারতীয় ধরন শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগে শঙ্কা দেখা দেয়। দক্ষিণ-পশ্চিমের সঙ্গে এই তিন জেলার সরাসরি যোগাযোগ থাকায় এ শঙ্কা; যা বর্তমানে বিদ্যমান।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, ‘বরিশাল বিভাগের সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এর গতি কোথায় গিয়ে থামবে, সেটা বলা মুশকিল। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।’
এদিকে, আজ সোমবার সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন সড়কে ঘুরে সকাল থেকে রাস্তায় প্রচুর মানুষ দেখা গেছে। রিকশা, মোটরসাইকেল এবং ব্যক্তিগত যান চলাচল করছে। নগরবাসী বলছেন, প্রয়োজনের তাগিদে তাদেরকে রাস্তায় বের হতে হয়েছে। এ ছাড়া খাদ্যসংস্থানের জন্যও রাস্তায় নেমেছেন অনেকে। তবে তার মধ্যে কৌতূহলী মানুষের সংখ্যাই বেশি। তারা কেবল লকডাউন পরিস্থিতি দেখতে রাস্তায় বেড়িয়ে ভীড় করছেন। জরুরি নয় এমন সব দোকানপাটও খুলে বসে রয়েছেন অনেকে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার জানান, জেলা এবং মহানগরীতে লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নে সোমবার ২০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। কেউ অযথা রাস্তায় বের হলে কিংবা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button