নারী

জীবনসঙ্গী যখন হয় সহযোগী

কে এ তানিস :
জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই একজন নারীর অনস্বীকার্য অবদান রয়েছে। প্রতিটি নারী একটি সংসারের মধ্যমনি এবং একজন পুরুষের জীবনের অলংকার। আর একজন পুরুষ যদি একজন নারীর পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়ায় তাহলে সেই নারীর জীবন যাপন এর পথ অনেকটা সহজ হয়ে উঠে। নারীদের বিয়ের আগের জীবন এক রকম আর বিয়ের পরের জীবন আরেক রকম হয়। বিয়ের পর একজন নারী সব ক্ষেত্রেই নির্ভর করে তার জীবনসঙ্গীর উপর। একজন নারী চায় তার জীবনসঙ্গী তাকে অনেক ভালোবাসুক এবং তার সব কাজেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিক, তার সব কাজে তার পাশে থাকুক।
আজকে ঠিক তেমনি একজন জীবনসঙ্গীর কথা বলবো যিনি সত্যিই অসাধারণ একজন ব্যক্তিত্বের অধিকারী । উনার মতো জীবনসঙ্গী সব মেয়েরাই তার জীবনে আশা করে। তিনি হচ্ছেন আমাদের একজন সফল উদ্যোক্তা ‘নাজনীন সুলতানা রিমি’ এর জীবনসঙ্গী রিসালাত হাসান খান।
নাজনীন সুলতানা রিমি কে তার জীবনসঙ্গী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেই তিনি প্রথম কথায় প্রান খুলে বলেন আলহামদুলিল্লাহ। আমি আমার জীবনে তাকে পেয়ে অনেক সুখি। আমার পাশে যদি সে না দাঁড়াতো তাহলে আজকে হয়তো আমি এই জায়গায় থাকতে পারতাম না। তিনি বিয়ের আগে চাকরি করতেন কিন্তু বিয়ের পরে তিনি চাকরি থেকে বিরতি নেন। এর পর তিনি একজন উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে তিনি ব্যাবসার ক্ষেত্রে যে সমস্যার সম্মুখীন হন তা হচ্ছে পণ্য গুলো ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিভাবে কি করা যায় সে সম্পর্কে কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। আর তখনই তার জীবনসঙ্গী রিসালাত হাসান খান তার পাশে দাঁড়ান এবং ব্যবসার সব কাজে বিশেষ করে প্রথম দিকে পণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিজে সরাসরি সহযোগিতা করেন এবং ব্যাবসায়ের অন্যান্য কাজেও তার হাতে হাতে রেখে সাহায্য করেন। বর্তমানে ওনার হাসবেন্ড একজন প্রথম শ্রেনীর সরকারি চাকুরীজীবি। এত বড় একজন মানুষ হয়েও তার স্ত্রীর পাশে থেকে তাকে তার সব ধরনের কাজে সাহায্য করতে এতটুকু দ্বিধা করেননি। নাজনীন সুলতানা রিমি ২০১১ থেকে ব্যবসা শুরু করেন। শুরুতে তার নিজের নামের ব্র্যাধন্ড “নাজনীন’স ফ্যাশন হাউজ নিয়ে কাজ করলেও সম্প্রতি তিনি “আম্বিয়া ” নামে আরও একটি ব্র্যা ন্ড পরিচালনা করছেন। আম্বিয়া আসলে ওনার মায়ের নাম। মাকে তার জীবনের সব ক্ষেত্রে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তিনি মায়ের নামে ব্যবসার নাম দিয়েছেন। আসলে তিনি নিজেও চমৎকার মনের একজন মানুষ।
ব্যবসা জীবনের দীর্ঘ এই পথ চলায় এবং আজকে পর্যন্ত তার পাশে আছেন প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে তার জীবনসঙ্গী।তিনি বলেন আমার হাসবেন্ড না থাকলে হয়তো আমি আজকের এই জায়গায় এত শক্ত করে দাঁড়াতে পারতাম না। আজকে আমি মনে করি আমি একজন সফল উদ্যোক্তা।
আমি মনে করি নারীদের যত বাঁধাই থাকুক না কেন একজন ভালো জীবনসঙ্গী থাকলে জীবনে সব ধরনের বাঁধা কাটিয়ে সফলতা নিয়ে আসা সম্ভব। নাজনীন সুলতানা রিমি বর্তমানে এক সন্তান সহ স্বামী সংসার নিয়ে অনেক ভালো আছেন। সামনে রমজানের ঈদ তাই কাজের চাপ ও একটু বেড়েছে। ব্যস্ততায় এখন বেশিরভাগ সময় কাটছে তার।
তিনি সব পুরুষদের উদ্দেশ্য বলেছেন, “আপনারা নারীদেরকে ছোট করে না দেখে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সহযোগিতা করুন, দেখবেন নারীরা সত্যিই অনেক গুণের অধিকারী তা প্রমান করে দিবে।
একজন নারীকে শুধুমাত্র উদ্যোক্তা হিসেবে দেখুন,
নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নয়।
তাহলে দেশে অনেক বেকারত্ব কমে যাবে। অনেক কর্মসংস্থান হবে। একজন উদ্যোক্তা অনেকের কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button