বাংলাদেশ

স্বাক্ষর না করায় ফুলবাড়ী উপজেলায় ইউপি সচিবকে লাঞ্ছিত করলেন চেয়ারম্যান

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের এক সচিবকে লাঞ্ছিত করে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।
গতকাল রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ওই ঘটনা ঘটে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুর দেড়টার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলার ৭ নম্বর শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ চৌধুরী বিপ্লব তার কার্যালয়ের সচিব শ্রী দীপক চন্দ্র দাসকে তার অফিস কক্ষে ডেকে ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিবিধ খাতে আদায়ের রসিদে স্বাক্ষর করতে বলেন। কিন্তু সচিব এতে স্বাক্ষর করতে অপারগতা জানালে চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত লোকজনের সামনেই সচিবকে গালিগালাজ করে অফিস থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। সেই সঙ্গে সচিবের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন চেয়ারম্যান। পরে বিষয়টি নিয়ে ইউপি সচিব দীপক চন্দ্র দাস ওই দিনই ইউএনও ও পুলিশের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দেন।
ভুক্তভোগী দীপক চন্দ্র দাস জানান, ৯ মাস আগে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পদে যোগদান করেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিষদের সকল প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ অর্থ আদায় সংক্রান্ত রসিদ সচিবের কাছে সংরক্ষিত ছিল। কিছুদিন আগে চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ ইউনিয়ন পরিষদের প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সকল প্রকার রাজস্ব আদায়ের রসিদ বই জোর করে সচিবের কাছ থেকে নিজ দখলে নেন। একইভাবে ২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য পাঁচটি ট্রেড লাইসেন্সের বই, ২০টি ট্যাক্স ও বিবিধ আদায়ের রসিদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ফি আদায়ের রসিদ বই স্থানীয় একটি প্রেস থেকে ছাপিয়ে তার নিজের দখলে রাখেন।
দীপক চন্দ্র আরও জানান, ঘটনার দিনও চেয়ারম্যান তাকে অফিস কক্ষে ট্রেড লাইসেন্সের রসিদে স্বাক্ষর করতে বলেন। যেহেতু ট্রেড লাইসেন্সের টাকা তিনি নিয়ে নিজের দখলে রেখেছেন, সেজন্য ওই রসিদে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান সচিব। এতে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি সদস্য সাজেদুর রহমান সাজু, অফিস সহকারী মেহেদী হাসানসহ উপস্থিত লোকজনের সামনেই অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে তার অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেন। এরপর চেয়ারম্যান সচিবের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে তাকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দেন। পরে ওইদিনই সচিব বিষয়টি লিখিতভাবে ইউএনও ও থানা পুলিশকে জানান।
অভিযোগে ইউপি সচিব উল্লেখ করেন, ‘২০২১-২০২২ অর্থ বছরের ভিডিটি চক্রের ৪৪০ জন সুবিধাভোগীর খাদ্যশস্য উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন চেয়ারম্যান। অভিযোগের অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার দিনাজপুরের উপ-পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।’
ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ইউপি সচিব দীপক চন্দ্র দাসকে ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্সে স্বাক্ষর করার জন্য বলা হলে তিনি তাতে অস্বীকৃতি জানান। দীর্ঘদিন থেকে সচিব ট্রেড লাইসেন্সে স্বাক্ষর না করায় ইউনিয়নের ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স নিতে এসে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ট্রেড লাইসেন্সে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তাকে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। জনগণের জন্য কাজ না করলে এখানে থাকার প্রয়োজন কী?’
তবে তাকে গালিগালাজ কিংবা ধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের দিয়ে তার অফিস কক্ষে তালা ঝুলানো হয়নি বলে জানান চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘এগুলো ইউপি সচিবের মিথ্যা অপপ্রচার।’
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ইউপি সচিবের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ইউপি সচিবের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পর্কিত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।

Back to top button