বাংলাদেশ

সরিয়ে দেয়া হলো শাহ আলমকে তথ্য গোপনের অভিযোগে

WhatsApp Image 2021 02 04 at 7.55.30 PM
সরিয়ে দেয়া হলো শাহ আলমকে তথ্য গোপনের অভিযোগে

হাজার কোটি টাকার লোপাটের তথ্য চাপা দেয়ার অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দায়িত্ব থেকে নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফিসিয়াল আদেশে নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তার (শাহ আলম) বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর চৌধুরী) এবং বর্তমান নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমের অনিয়ম-দুর্নীতি খতিয়ে দেখছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। গত ৩রা ফেব্রুয়ারি) আদালতে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হকের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

তাদের বিরুদ্ধে স্টাফ ‘ল’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম।

আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে রাশেদুল হক জানিয়েছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়ম চাপা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন কর্মকর্তাদের ‘মাসোহারা’ দেয়া হতো। এসব অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক ও বর্তমান নির্বাহী পরিচালক শাহ আলম, সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী।

আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে রাশেদুল হক দাবি করেছেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা অনিয়ম চাপা দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন কর্মকর্তাদের ৫-৭ লাখ টাকা করে দিতে হতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক শাহ আলমকে প্রতি মাসে দেয়া হতো ২ লাখ টাকা করে।
আদালতে রাশেদুল হক বলেছেন, প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর এস কে সূর চৌধুরীর ভালো সম্পর্ক ছিল। পিকে হালদারের মাধ্যমেই সব অনিয়মকে ‘ম্যানেজ’ করতেন তিনি। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগ থেকে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং পরিদর্শন করার জন্য বছরে দু’বার সহকারী পরিচালক থেকে যুগ্ম পরিচালক পদের দু’জন কর্মকর্তা আসতেন। যারা অনিয়ম এড়িয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন দেয়ার বিনিময়ে নিতেন ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা।
আর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব অনিয়ম ‘ম্যানেজ’ করতেন তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর এস কে সূর চৌধুরী।

সম্পর্কিত

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button